Search
  • faridahmedreza

করোনা যুদ্ধ এবং শ্রমজীবীদের জীবন-যুদ্ধ [সুরমার সম্পাদকীয় ।। সংখ‍্যা ২১৪৮]


করোনা নামক ধরা-ছোঁয়ার বাইরে অবস্থিত এক শত্রুর মোকাবেলা করতে গিয়ে বর্তমান বিশ্বের ছোটবড় সকল রাষ্ট্র হিমশিম খাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্পের অহঙ্কারকে করোনা ধূলায় মিশিয়ে দিয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত বিশ্বের ৩১ লাখ ৪৭ হাজার মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু বরন করেছেন ২ লক্ষ ১৮ হাজার মানুষ। তবে আক্রান্তদের মধ্যে ৯ লাখ ৬১ হাজার মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। সেখানে এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু বরণকারী মানুষের সংখ্যা ৫৯ হাজার। বৃটেনে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার।

বাংলাদেশে সরকারী হিসাব অনুসারে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭১০৩ এবং মৃতের সংখ্যা ১৬৩ জন। সকরকারী হিসাবের উপর বাংলাদেশের মানুষের আস্থা নেই। তারা মনে করেন, আক্রান্ত ও মৃতের যে সংখ্যা বাংলাদেশ সরকার প্রকাশ করছে, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা হ্রাস করে সরকার করোনা প্রতিরোধে সরকারী গাফলতি ও ত্রুটিকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। জাতীয় সঙ্কটকালে সরকারের হিসাবের প্রতি এ করম অনাস্থা শুভ লক্ষণ নয়। জনসাধারণকে আস্থায় না নিয়ে একা সরকারের পক্ষে করোনার বিরুদ্ধে টেকসই প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। করোনার বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিয়ে যুদ্ধ করা সম্ভব নয়, বাংলাদেশের বাক্যবাগীশ সরকারী কর্তা ব্যক্তিগণ এখনো বুঝতে পারেননি। করোনা যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হচ্ছে, বাংলাদেশের ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী ও হাসপাতালগুলোতে করোনা ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে। বাংলাদেশ ডক্টর ফাউণ্ডেশনের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত দেশের ৪৪০ জন ডাক্তারের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী মৃত্যু বরণ করেছেন। আক্রান্ত রোগীদের ৭ শতাংশই ডাক্তার। আক্রান্তদের মধ্যে নার্সের সংখ্যা ২৩৫ জন। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধের সৈনিক হচ্ছেন ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। ডাক্তার ও স্বাস্থ্য সেবায় যারা নিয়োজিত আছেন তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এ যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার জন্যে আবিশ্যিক পূর্বশর্ত। দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশের সরকার বা স্বাস্থ্যবিভাগ বিষয়টাকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করছে না। জানা গেছে, অনেক ডাক্তার যথাযথ পিপিই ছাড়াই রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সংবাদকর্মী ও আইন-শৃংখলার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন। দেশের এ সকল সৈনিকের প্রতি আমাদের অভিবাদন। তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনিবার্য ফলশ্রুতি হিসেবে বাংলাদেশের দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে নেমে আসছে সীমাহীন দুর্ভোগ। আগামী দিনগুলোতে তা আরো চরম আকার ধারণ করবে। সরকার, বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষকে অবশ্যম্ভাবী সে অবস্থা মোকাবেলার জন্যে সর্বতোভাবে প্রস্তুত হতে হবে। পেটে ভাত না থাকলে চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষ কোনো আইন-কানুনকে তোয়াক্কা করবে না। করোনা যুদ্ধের সাথে সাথে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের প্রয়োজন পূরণের প্রতি সরকারকে মনযোগী হতে হবে।

9 views0 comments